1. omsakhawat@gmail.com : admin :
  2. emaad55669@gmail.com : Sakhawat Ullah : Sakhawat Ullah
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪০ অপরাহ্ন
বিঃ দ্রষ্টব্য
★★ স্বাগতম আপনাকে আমাদের সাইটে ভিজিট করার জন্য!চাইলে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন!  বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন! ★★
শিরোনাম
গভীর রাতে থেমে গেল ট্রেন, রেললাইনে শুয়ে রক্তাক্ত কুমির! সোমালিয়ায় আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১১ সৌদি বাদশার বিশেষ সহকারীকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন নির্দেশনা ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর পূর্বের বইপাঠ ও পর্যালোচনা উৎসব অনুষ্ঠিত গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ‘সংক্রমণ বাড়লে আবারো স্কুল-কলেজ বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হবে’ রাজধানীতে পথকলিদের নিয়ে ইশা ঢাকা মহানগর পূর্বের শিক্ষা আসর ও খাবার বিতরণ কর্মসূচী পালিত বাবু নগরীর পর এবার চলে গেলেন বাংলাদেশের মুফতিয়ে আজম আব্দুস সালাম চাটগামী অ্যাসাইনমেন্ট দিতে এসে কলেজের টয়লেটে সন্তান প্রসব, রেখেই পালালো ছাত্রী জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ নেতাকর্মী আটক

অর্থনৈতিকভাবে স্ববালম্বী হতে চাকরি বা বিজনেস যেটা আপনার ইচ্ছা বেছে নিন আজই!

শৈশবের সেই দিনগুলো আজও ভুলতে পারিনি!

  • প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৬৪ পঠিত

আনীস বিন সাইফ

কখনো ভাবিনি নিজেকে নিয়ে, নিজের শৈশব নিয়ে লিখব! প্রিয় কারো কথায় লিখতে বসেছি । যার কথাই আমার জন্য আদেশ । শৈশবের সেই আনন্দঘন সোনালী দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই চোখের তারায় ভেসে ওঠে পাকা রাস্তাঘেঁষা একটি দোতলা বাড়ি।বাড়ির উত্তর পাশে একটি চাতাল। অনতিদূরে একটি বেকারি । তার উত্তর পাশে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া একটি পেয়ারা গাছ । পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স । দারোগা সাহেব এবং তার কথা বলা ময়না পাখিটি ।
আর যে দৃশ্যগুলো এখনো আপন সৌন্দর্যে দৃশ্যমান- রেল লাইন, আরিফ মামা ও রত্না আন্টির নিঃস্বার্থ আদর!


আমার বয়স দুবছর থেকে আড়াই বছর । তখনকার কিছু স্মৃতি এখনো আমার মানসপটে পূর্ণিমার চাঁদের মতোই ভাস্বর!


মা বাবার একমাত্র সন্তান আমি । ভাই বোন কারো আগমন ঘটেনি তখনো । আমি একা ! আমাকে নিয়ে,আমার খুশি নিয়েই তারা সারাদিন ব্যস্ত!
আব্বু সরকারি চাকুরিজীবী । সকালে নাস্তা করে অফিসে যেতেন । দুপুরে এসে ভাত খেয়ে আবার যেতেন । ফিরতেন একেবারে বিকেলে । পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স পাশেই ছিল । পাঁচ মিনিটের পথ।
আমরা তখন বগুড়ায় । জায়গার নাম এখন মনে নেই । তবে জায়গাটা ছিলো ফকিরুদ্দীন স্কুল এ্যান্ড কলেজের পাশে ।

পিচঢালা পাকা রাস্তার পাশে দোতলা একটি বাড়ি। তার নিচ তলায় একটি ঘরে আমরা ভাড়া থাকতাম । আমাদের ঘরটি ছিল মাঝে । প্রথম ঘরটি ছিল মেহেদিদের । ওর আব্বুও পুলিশ । পরের ঘরটি ছিল আরিফ মামা ও রত্না আন্টির । ভাইবোন এখানে ভাড়া থেকে পড়ালেখা করত ।


বাড়ির উত্তর পাশে ছিল একটি চাতাল। সেখানে ধান সিদ্ধ করা থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত কাজগুলো করা হত । বাড়ি আর চাতালের মাঝে একহাতের মতো জায়গা ছিল খালি । বৃষ্টির দিনে পানিগুলো সেই ফাঁকা জায়গা দিয়ে চলে যেত । সেখানে একবার বৃষ্টির দিনে একটি গুইসাপ দেখেছিলাম । হলুদ রঙের । মাকে দেখালাম, বললেন, এটা গুইসাপ!


বাড়ির পেছন দিকে একটু দূরে ছিল গোরস্থান । একটু রাত হলেই শুরু হতো শিয়ালের চেচামেচি হুঁক্কাহুঁয়াঁ…!
অফিসে যাওয়ার সময় মাঝে মাঝে আব্বু আমাকে কোলে করে নিয়ে যেতেন । দারোগা সাহেবের কাছে গেলেই তিনি নিয়ে নিতেন আমাকে ।টেবিলের ওপর বসিয়ে বলতেন, ‘বাবু! কী খাবে? বিস্কুট না চকলেট?’ এই বলে ড্রয়ার থেকে চকলেট আর বিস্কুট বের করে দুহাতে ধরিয়ে দিতেন । আর আব্বুকে ধমকের সুরে বলতেন, ওকে আনেন না কেন? প্রতিদিনই নিয়ে আসবেন! উত্তরে আব্বু শুধু মিটিমিটি হাসতেন ।


তাঁর চেয়ারের বাঁ পাশে একটি ময়না থাকত খাঁচায় । আমরা গেলেই কী মিষ্টি করে বলত, ‘মেহমান এসেছে বসতে দিন!’ আমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতাম পলকহীন । পাখি মানুষের মতো কথা বলে!!
বিকেল বেলা আব্বু আম্মু আমাকে নিয়ে বের হতেন ঘুরতে । হাঁটতে হাঁটতে চলে যেতাম রেললাইনে । আমার ডান হাত আব্বুর হাতে ধরা আর বাঁ হাত আম্মুর হাতে । আমি লাইনের মাঝে হাঁটছি আর তারা পাতের ওপর! মাঝে মাঝে পাথরে পা লাগায় হোঁচট খাচ্ছি । দুজন তো দুপাশ থেকে ধরে রেখেছেন । পড়ার কোন ভয় নেই । তবুও বুকটা কেঁপে কেঁপে ওঠে!
রাত আটটার দিকে ঘরে ফিরতেন আরিফ মামা । আমি ঘুমিয়ে গেলেও এসে তুলে নিয়ে যেতেন তাঁর ঘরে।

এতে আব্বু আম্মু কেউই কিছু বলতেন না । তখন সবাই একটু বেশিই আদর করত আমাকে । যে দেখত সেই কোলে নেওয়ার জন্য হাত বাড়াত । আরিফ মামা আমাকে নিয়ে সোজা তার পড়ার টেবিলের ওপর বসাতেন । নিজে চেয়ার টেনে বসতেন । বলতেন, ‘বাবু চোখ বন্ধ করো তো!’ আমি চোখ বন্ধ করা মাত্রই আমার হাতে এক থোকা আঙুর দিয়ে বলতেন, ‘খাও!’ এই ছিল তাঁর নিত্যদিনের রুটিন । আর রত্না আন্টি ভালো কিছু রান্না করলে আমাকে নিয়ে নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন । তাদের এই নিঃস্বার্থ আদেরের কথা কোনদিনও ভুলার নয় ।


একদিন ঘটে গেলো নাটকীয় ঘটনা! আমি অন্যদের সাথে খেলতে খেলতে বেকারির কাছে চলে আসি । বাসা থেকে বেকারি বেশি দূরে না । জায়গাটা নির্জন । কেমন বাগান বাগান । গাছ গাছালিতে ভরা । পাশে মাটির দিকে ঝুকে পড়া পেয়ারা গাছে উঠতে নামতে আমাদের কোন সমস্যাই হচ্ছিল না । আমরা চার পাঁচজন ছিলাম । বেকারির মালিক আমাদের সবাইকে ডেকে নিয়ে বিস্কুট খাওয়ালেন । এদিকে কত সময় যে পার হয়েছে তার খবর নেই । আব্বু দুপুরে বাসায় এসে দেখেন আমি নেই । আম্মু বললেন, দুপুরের আগ থেকেই দেখছি না । শুরু হলো খোঁজা । বাসার আশপাশে নিজেরাই খুঁজলেন । পেলেন না! দারোগা সাহেবকে জানানো হলে তিনি তৎক্ষণাৎ পাঁচ কনেস্টবলকে আব্বুর সাথে পাঠিয়ে দিলেন ।

তারাও খুঁজলো । খুঁজতে খুঁজতে বিকেল হয়ে গেলো । আমার দেখা নেই! বিকেলবেলা আম্মু সেই বেকারির কাছে এসে দেখেন আমি পেয়ারা গাছে বসা । গাছ থেকে নামিয়ে নিয়ে সোজা বাসায় চলে এলেন । ঠাস করে একটি চড় মারলেন মুখে! দেখলাম, তাঁর দুগাল বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে টপটপ করে!!


এতো ছিলো শৈশবের কয়েকটি খণ্ডচিত্র । যা এখোনো চোখের তারায় ভাসে । এছাড়া কত যে স্মৃতি পড়ে আছে সেই স্মৃতিময় বগুড়ায় ।


শৈশবের দিনগুলো ছিলো বড় আনন্দের, আদর সোহাগ আর দুরন্তপনার । যত দিন যাচ্ছে, যত বড় হচ্ছি সেই দিনগুলো ততই ঝাপসা হয়ে আসছে । হাহাকার করে ওঠে মন । আহ! আবার যদি ফিরে আসত সেই সোনালী শৈশব!!!

পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার মতামত জানান এবং শেয়ার করুন। ধন্যবাদ!


Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/ourmedia24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5411

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

Deprecated: WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/ourmedia24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5495
© All rights reserved 2020 ourmedia24. কারিগরি সহায়তায়ঃ
Theme Customized By BreakingNews