1. omsakhawat@gmail.com : admin :
  2. emaad55669@gmail.com : Sakhawat Ullah : Sakhawat Ullah
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
বিঃ দ্রষ্টব্য
★★ স্বাগতম আপনাকে আমাদের সাইটে ভিজিট করার জন্য!চাইলে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন!  বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন! ★★

অর্থনৈতিকভাবে স্ববালম্বী হতে চাকরি বা বিজনেস যেটা আপনার ইচ্ছা বেছে নিন আজই!

ভ্যালেন্টাইন’স্ ডে; ভালোবাসাগুলো হোক পবিত্র, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম!

  • প্রকাশকাল : রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৩০ পঠিত

আওয়ার মিডিয়া : ১৪ ফেব্রুয়ারি “ভ্যালেন্টাইন’স ডে” বা “বিশ্ব ভালোবাসা দিবস” নামে পরিচিত। প্রথমেই আসুন এ ভালোবাসা দিবসের সূচনালগ্নের ইতিহাস সম্পর্কে জানি। ২৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস বিবাহিত পুরুষদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ বন্ধ করে দেন এবং আইন জারি করেন, তার সাম্রাজ্যে কোন সেনা সদস্য বিয়ে করতে পারবে না। কারণ বিবাহিত সেনারা স্ত্রী-সন্তানদের মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে চাইত না। কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে রোমান এক ধর্মযাজক সম্রাটের ন্যায়ভ্রষ্ট এই নিয়মের প্রতিবাদ করেন এবং তিনি বিয়ে করেন। এ খবর সম্রাট ক্লডিয়াসের কাছে পৌঁছলে তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে গ্রেফতার করে মৃত্যুদণ্ড দেন। আর সে মৃত্যুদণ্ডটি কার্যকর হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ দিবসকে ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ বা “ভ্যালেন্টাইনস্’ ডে” হিসেবে পালন করা হয়। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে এ দিবস অত্যন্ত আড়ম্বর, জাঁকজমকপূর্ণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়। এর সূচনা মধ্যযুগে হলেও নব্বই দশকের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী এর ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটে। অথচ আশির দশকেও বাংলাদেশের মানুষ এ দিবসটির সঙ্গে ছিল অনেকটাই অপরিচিত। নব্বইয়ের দশক থেকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সহযোগিতায় ও দাজ্জালি মিডিয়ার কল্যাণে এ দেশের যুবসমাজের মাঝে তা ছড়িয়ে পড়ে।

‘ভালবাসার’ এই দিনটিকে কেন্দ্র করে উম্মাদ হয়ে ওঠে গোটা পৃথিবী। বাজার ছেয়ে যায় নানাবিধ উপহারে। পার্ক ও হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো সাজানো হয় নতুন সাজে। পৃথিবীর প্রায় সব বড় শহরেই ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’কে ঘিরে পড়ে যায় সাজসাজ রব। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি প্রাচ্যের দেশগুলোতেও এখন এ অপসংস্কৃতির মাতাল ঢেউ লেগেছে। হৈ চৈ, উন্মাদনা, ঝলমলে উপহার সামগ্রী, প্রেমিক যুগলের চোখেমুখে থাকে বিরাট উত্তেজনা। বছরের এ দিনটিকে তারা বেছে নিয়েছে হৃদয়ের সুপ্তকথার কলি ফোটাতে।

এ দিনটিতে সবচেয়ে যে জঘন্য ও নির্লজ্য যে সকল কাজ করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হল— মিলনাকাঙ্ক্ষী অসংখ্য যুগলের সবচেয়ে বেশী সময় ধরে চুম্বনাবদ্ধ হয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া। কোথাও কোথাও চুম্বনাবদ্ধ হয়ে ৫ মিনিট অতিবাহিত করে ঐ দিনের অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শুরু হয়ে থাকে। আর এভাবেই এ অবৈধ প্রেম-ভালোবাসায় মাতোয়ারা থাকে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলো। পার্ক, রেস্তোরাঁ, ভার্সিটির করিডোর, টিএসসি, ওয়াটার ফ্রন্ট, ঢাবির চারুকলার বকুলতলা, আশুলিয়া- সর্বত্র থাকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের তুমুল ভিড়।

এছাড়াও এ “ভ্যালেন্টাইন’স ডে” উপলক্ষে অনেক তরুণ দম্পতিও হাজির হয় প্রেমকুঞ্জগুলোতে। দেশের নামী-দামী হোটেলের বলরুমে বসে তারুণ্যের মিলন মেলা। ‘ভালবাসা দিবস’কে স্বাগত জানাতে হোটেল কর্তৃপক্ষ বলরুমকে সাজান বর্ণাঢ্য সাজে। নানা রঙের বেলুন আর অসংখ্য ফুলে সজ্জিত করা হয় বলরুমের অভ্যন্তর। জম্পেশ অনুষ্ঠানের সূচিতে থাকে লাইভ ব্যান্ড কনসার্ট, ডেলিশাস ডিনার এবং উদ্যাম নাচ। আগতদের সিংহভাগই অংশ নেয় সে নাচে। ঘড়ির কাঁটা যখন গিয়ে ঠেকে রাত দু’টার ঘরে তখন শেষ হয় ভালোবাসা দিবসের কাঙ্ক্ষিত অনুষ্ঠান ও প্রোগ্রামের বর্ণাঢ্য সব আয়োজন-উৎসব। এরপর প্রেমিক-প্রেমিকা চলে যায় এক ভিন্ন জগতে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তারা নিজেদেরকে বিলিয়ে দেয় একে অপরের কাছে। আর এভাবেই ক্ষণিকের তৃপ্তি উপভোগের জন্য নিজেদের তারা বিলিয়ে দেয় অনায়েসে। সকাল হতে না হতেই আমরা খবরের কাগজে ও পত্রিকার পাতায় সেগুলোর সংবাদ দেখতে পারি….জানতে পারি তাদের শেষ নতীজার কথা……আর এভাবেই অবশেষে কেউ হয়তো আত্মহত্যা করে কেউ বা বেছে নেই ভয়ংকর কোন পথ…..!

কিন্তু কেন?? মোটেই তো এমনটি হবার কাম্য ছিল না। কারণ ভালোবাসা তো একটি পবিত্র বস্তু। একটি প্রশংসনীয় কাজ। এই ভালোবাসার কারণেই শ্রদ্ধাময়ী মা গর্ভে সন্তান ধারণ করেন। পিতা কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ভালোবাসার কারণেই তো বনজঙ্গলের হিংস্র প্রাণীগুলোও স্বজাতিদের নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করে। কারণ ভালোবাসা আল্লাহর মহান দান, খোদা প্রদত্ত এক উদ্ভুত অনুভূতি, আত্মার তৃপ্তি ও মনের প্রশান্তি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা শিক্ষা দিয়েছেন, যা কোনো বিশেষ দিবসের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও উত্তম চরিত্রমাধুর্য দ্বারা আমাদের প্রিয় নবী (সা.) জয় করে নিয়েছেন শত কোটি মানুষের হৃদয়; বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছেন ইসলামের বিকিরণ। ভালোবাসার অপরিহার্যতা বুঝাতে গিয়ে নবী করিম সা. নিজেই বলেন,

اَالمُٶمِنُ مَألَف، لا خَيرَ فِيمَن لا يَألَفُ ولا يُألَفُ،

“মুমিন ভালোবাসার পাত্র, যে কাউকে ভালোবাসে না এবং যাকে কেউ ভালোবাসে না, তার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।”

এই হাদীস থেকে এ কথা একেবারেই সুস্পষ্ট যে, এখানে ভালোবাসা বলতে কোন ভালোবাসার কথা বুঝানো হয়েছে। এমনিভাবে অপর এক হাদীসেও রাসূল সা. বলেন—

”من أحب الله، وأبغض الله، وأعطی الله، ومنع الله، فقد إستکمل الإيمان.

“যে আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসল, আল্লাহর জন্য কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, আল্লাহর জন্য কিছু দান করল এবং আল্লাহর জন্যই নিষেধ করল, সে ইমানকে পরিপূর্ণ করে নিল।”

প্রিয় পাঠক ! কেবল এই দুইটি হাদীসই নয়, পবিত্র ভালোবাসার গুরুত্ব বুঝাতে কুরআন ও হাদীসে যেমন প্রচুর উৎসাহ-উদ্দীপনামূলক আলোচনা রয়েছে তেমনি অপবিত্র ভালোবাসার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কেও সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। তাই আমাদের উচিৎ প্রতিটি ভালোবাসা যেন হয় পবিত্র, তাতে যেন থাকে বিবেক ও স্রষ্টার সম্মতির সমন্বয়—সেদিকে লক্ষ্য রাখা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের একে অপরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসার তৌফিক দান করুন, আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার মতামত জানান এবং শেয়ার করুন। ধন্যবাদ!


Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/ourmedia24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5411

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

Deprecated: WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/ourmedia24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5495

Deprecated: WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/ourmedia24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5495
© All rights reserved 2020 ourmedia24. কারিগরি সহায়তায়ঃ
Theme Customized By BreakingNews