1. omsakhawat@gmail.com : admin :
  2. emaad55669@gmail.com : Sakhawat Ullah : Sakhawat Ullah
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
বিঃ দ্রষ্টব্য
★★ স্বাগতম আপনাকে আমাদের সাইটে ভিজিট করার জন্য!চাইলে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন!  বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন! ★★
শিরোনাম
দেশে এই প্রথম প্রতিষ্ঠিত হলো হিজামা বিষয়ক সংগঠন “হিজামা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ” ৬২ শতাংশ ভোটে জয় পেলেন ‘কট্টরপন্থী’ ইব্রাহিম রাইসি দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় আবু ত্ব-হা আদনানের সন্ধানের দাবি শিগগিরই খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উগ্র ইহুদিবাদীদের পতাকা মিছিল আজ; মসজিদুল আকসায় ফিলিস্তিনিদের সমবেত হওয়ার আহ্বান ভারতে নামাজ পড়তে যাওয়া বৃদ্ধকে মারধর করে দাঁড়ি কেটে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা! মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আরো বাড়তে পারে সিরিয়ার হাসপাতালে হামলা, শিশুসহ নিহত ১৮ শিশুর আগামী হোক স্বপ্নময় লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান গাদ্দাফির ছেলে!

অর্থনৈতিকভাবে স্ববালম্বী হতে চাকরি বা বিজনেস যেটা আপনার ইচ্ছা বেছে নিন আজই!

পহেলা বৈশাখ : সংস্কৃতি নাকি অপসংস্কৃতি ; ইসলাম কী বলে (শেষ পর্ব)

  • প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৯০ পঠিত

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ইসলাম (ইতিহাস)

১৯৮৪ সাল। বাংলা ১৩৯০ সনের চৈত্র মাসের শেষ দিন। স্বৈরশাসনের অবরুদ্ধ সময়ের সেই দিনে চট্টগ্রামবাসী এক নতুন ঘটনার অভিজ্ঞতা লাভ করে। তখনকার নন্দনকানন এলাকাটি ছিল শান্ত ও নির্জন। কিন্তু সেদিন বিকেলে ডিসি পাহাড়ের সামনে ছিল শত শত মানুষের কোলাহল। ছিল ঢাকের বাদ্য, ঢোলের আওয়াজ, বাঁশির সুর, স্যাক্সোফোনের সুর আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে, রংবেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে রেলী শুরু হয় ডিসি পাহাড়ের সামনে থেকে।

যার নাম হয়েছে মঙ্গলশোভাযাত্রা।বৌদ্ধমন্দির সড়ক হয়ে শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার, কে সি দে সড়ক, লালদীঘি, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড হয়ে আবার ডিসি পাহাড়ে ফিরে আসে। সম্মিলিত পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন পরিষদের আয়োজনে পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে সেই প্রথম শোভাযাত্রার শুরু হলো চট্টগ্রামে।

১৯৭৮ সালে নগরে প্রথম নববর্ষের আয়োজন হলেও মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এর ছয় বছর পর। চট্টগ্রামে পয়লা বৈশাখের দিনই মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন শুরু হয় বাংলা ১৪১৩ সনের (২০০৬ সালে) নববর্ষে। এর উদ্যোক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন চট্টগ্রাম চারুশিল্পী সম্মিলন।

এখন প্রতিবছর নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

তবে ইসলামের দৃষ্টিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হারাম। মঙ্গল শোভা যাত্রায় বড়বড় পুতুল, হুতোম পেঁচা, হাতি, কুমির ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন জীব-জন্তু মুখোশ পরে প্রাপ্তবয়স্কে নারী-পুরুষ একসঙ্গে অশালীন পোশাক পরে অশ্লীল ভঙ্গিতে ঢোল বাদ্যের তালে তালে নৃত্য করে সড়ক প্রদক্ষিণ করার রীতি চালু করা হয়েছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।

হিন্দু সমাজে শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিনে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে পেঁচা, রামের বাহন হিসেবে হনুমান, দুর্গার বাহন হিসেবে সিংহের মুখোশ পরে ও দেবতার প্রতীক হিসেবে সূর্য এবং অন্যান্য জীব-জন্তুর মুখোশ পরে মঙ্গল শোভাযাত্রা করে থাকে।

পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ বরণের নামে বিভিন্ন জীবজন্তুর মূর্তি নিয়ে মঙ্গল শোভা যাত্রা, মুখে উল্কি আঁকা এবং নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণসহ সকল অনৈসলামিক কাজ থেকে আমাদেরকে দূরে থাকতে হবে। বছরের শুরুতেই যে বাঘ-ভাল্লুক, সাপ, বিচ্ছু, কুমির, পেঁচা, ময়ূর ও বিভিন্ন দেব-দেবীর বড় বড় মূর্তি, ছবি নিয়ে ও মুখোশ পরে মঙ্গল শোভা যাত্রার নামে যে র‌্যালি বের করা হয়, এখানে কার কাছে নতুন বছরের মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করা হচ্ছে?

ইসলামের বিশ্বাস মতে কোন জীবজন্তু, বন্যপ্রাণী ও দেবদেবীর মূর্তির কাছে কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করলে ঈমান থাকবে না। মুসলমানদের বিশ্বাস মতে ভাল-মন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গল সব কিছুই আল্লাহর হুকুমেই সংঘটিত হয়ে থাকে। মুসলমানকে কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করতে হবে একমাত্র আল্লাহর কাছেই। সুতরাং মুসলমানদের জন্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার সংস্কৃতি চর্চা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এক ভাষণে বলেছিলে—


“স্কুল কলেজ পড়ুয়া ৯২ ভাগ মুসলমানের সন্তানকে কী করে শিক্ষা অধিদফতর ঈমান বিধ্বংসী মঙ্গল শোভাযাত্রা পালনের নির্দেশ দিতে পারে! এটা শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাখ লাখ মুসলিম ছাত্রছাত্রীর ঈমান ধ্বংস করার আয়োজন ছাড়া কিছু নয়। তিনি হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি মানে যেসব আচরণ ও রীতি দেশের মানুষের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়। অথচ শিক্ষা অধিদফতর পহেলা বৈশাখ সারা দেশের কোমলমতি লাখ লাখ মুসলিম ছাত্রদেরকে এমন এক সংস্কৃতি পালনে বাধ্য করতে চাচ্ছে, যেই সংস্কৃতির রীতি ও ধরণ সম্পর্কে দেশের ৯০ মানুষের কোনই ধারণা নেই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষের ধারণা নেই- এমন রীতি দেশীয় সাংস্কৃতি হয় কী করে? বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব আরো বলেন, বর্ষবরণের উৎসবের নামে নারী-পুরুষ পরস্পরের মুখে উল্কি আঁকা, জীবজন্তুর মুখোশ পরা, নারীরা লালপাড়ের সাদা শাড়ি পরিধান করে কপালে শাখা-সিঁদুর লাগিয়ে সম্মিলিত উলুধ্বনি দেয়া, এগুলোর সবই হিন্দু ধর্মীয় রীতি। হিন্দুসম্প্রদায়ের মানুষ এসব পালন করতে পারে। কিন্তু মুসলমানদের জন্যে এসব পালনের কোনই সুযোগ নেই। তাছাড়া পান্তা-ইলিশের নামে যে সংস্কৃতির চর্চা এখন চলে থাকে, তাও আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কোন অংশ নয়, বরং এটা গ্রাম-বাংলার খেটে খাওয়া কোটি কোটি মানুষের দারিদ্রতার সাথে উপহাস ছাড়া আর কিছু নয়। জাতীয় সংস্কৃতি ও আনন্দ হতে হবে, যেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সামাজিক রীতি ও নীতি-আদর্শকে ফুটিয়ে তোলে এবং যে আনন্দে প্রায় সকলেই শরীক হতে পারে। হেফাজত নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রেখে বলেন, বাঘ-ভাল্লুক ও সাপ-বিচ্চুর মঙ্গল শোভাযাত্রা কার প্রতিনিধিত্ব করছে এবং পান্তা-ইলিশে দেশের কত ভাগ মানুষ শরীক হওয়ার সক্ষমতা রাখে?”

পহেলা বৈশাখে মুসলমানদের কোন উৎসব নেই বরং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধরনের পূজা এবং উৎসব রয়েছে। এগুলো হলো-১) হিন্দুদের ঘটপূজা, ২) হিন্দুদের গণেশ পূজা, ৩) হিন্দুদের সিদ্ধেশ্বরী পূজা, ৫) হিন্দুদের চৈত্রসংক্রান্তি পূজা-অর্চনা, ৬) মারমাদের সাংগ্রাই ও পানি উৎসব, ৭) চাকমাদের বিজু উৎসব (ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের পূজা উৎসবগুলোর সম্মিলিত নাম বৈসাবি), ৮) হিন্দু ও বৌদ্ধদের উল্কিপূজা, ৯) মজুসি তথা অগ্নি পূজকদের নওরোজ, ১০) হিন্দুদের বউমেলা, ১১) হিন্দুদের মঙ্গলযাত্রা, ১২) হিন্দুদের সূর্যপূজাসহ বিধর্মীদের বিভিন্ন পালনীয় দিবস রয়েছে।

এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফে এসেছে: “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদের দলভুক্ত।”

প্রিয় পাঠক! ৫ম পর্ব থেকে আমরা বুঝতেই পেরেছি যে,মুখে উল্কি আঁকা, জীবজন্তুর মুখোশ পরা, নারীরা লালপাড়ের সাদা শাড়ি পরিধান করে কপালে শাখা-সিঁদুর লাগিয়ে সম্মিলিত উলুধ্বনি দেয়া, এগুলোর নিশ্চয় মুসলমানদের জন্য নয়। যদি আমরাও বিধর্মীদের সাথে তাল মিলিয়ে মঙ্গলশোভাযাত্রায় নিজেকে শামিল করে নেই, তাহলে ওদের সাথে আমাদের পার্থক্যটা কোথায় রইল? আল্লাহ তাআ’লা আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন।

সঙ্গীত ও বাদ্য ও ইসলাম :

নববর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত থাকে সংগীত ও বাদ্য। যেকোন বাদ্যযন্ত্রকেই ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া যেমন বিশেষ কিছু উপলক্ষে দফ নামক বাদ্যযন্ত্র বাজানোর অনুমতি হাদীসে এসেছে। তাই যে সকল স্থানে এসব হারাম সংগীত উপস্থাপিত হয়, যেমন- রমনার বটমূল, বৈশাখী মেলা এবং নববর্ষের অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি, সে সকল স্থানে যাওয়া, এগুলোতে অংশ নেয়া, এগুলোতে কোন ধরনের সহায়তা করা কিংবা তা দেখা বা শোনা সকল মুসলিমের জন্য বর্জনীয়।


তাছাড়া অনর্থক কথা ও গল্প-কাহিনী যা মানুষকে জীবনের মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখে,তা নিঃসন্দেহে মুসলিমের জন্য বর্জনীয়। অনর্থক কথা, বানোয়াট গল্প-কাহিনী এবং গান-বাজনা দ্বারা মানুষকে জীবনের মূল লক্ষ্য থেকে সরিয়ে রাখা শয়তানের পুরোনো কূটচালের একটি। আল্লাহ এ কথা কুরআনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

যেমন আল্লাহ বলেন- “এবং তাদের মধ্যে যাদেরকে পার পর্যায়ক্রমে বোকা বানাও তোমার গলার স্বরের সাহায্যে” (সূরা আল ইসরা, ১৭:৬৪)

যে কোন আওয়াজ, যা আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে আহ্বান জানায়, তার সবই এই আয়াতে বর্ণিত আওয়াজের অন্তর্ভুক্ত। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)

রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন : “আমার উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক হবে যারা ব্যভিচার, রেশমী বস্ত্র, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল বলে জ্ঞান করবে।” (বুখারী: ৫৫৯০)

এছাড়াও এ ধরনের অনর্থক ও পাপপূর্ণ অনুষ্ঠান সম্পর্কে বহু সতর্কবাণী এসেছে কুরআনের অন্যান্য আয়াতে এবং আল্লাহর রাসুলের হাদীসে। উপরন্তু নববর্ষ উপলক্ষে যে গানগুলো গাওয়া হয়, সেগুলোর কোন কোটির কথাও শিরকপূর্ণ, যে সকল মুসলিমের মধ্যে ঈমান এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, তাদের উচিত এসব কিছুকে সর্বাত্মকভাবে পরিত্যাগ করা।

সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী বহু গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র। যথা :

ক) নিফাক এর উৎস
খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী
গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ ঘ) কুরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী
ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী
চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও
ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী।
(-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭)

বস্তুত গান বাজনার ক্ষতিকর প্রভাব এত বেশি যে, তা নাজায়েয হওয়ার জন্য আলাদা কোনো দলীল খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদীসের মাধ্যমে তা প্রমাণিত।

হাদীসের ভাষ্য :

গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কর না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই। জেনে রেখ, এর প্রাপ্ত মূল্য হারাম।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮

বর্তমানে গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে যাতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এর সকল উপার্জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন।-সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২

উপরোক্ত বাণীর সত্যতা এখন দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। গান-বাজনার ব্যাপক বিস্তারের ফলে মানুষের অন্তরে এই পরিমাণ নিফাক সৃষ্টি হয়েছে যে, সাহাবীদের ইসলামকে এ যুগে অচল মনে করা হচ্ছে এবং গান-বাদ্য, নারী-পুরুষের মেলামেশা ইত্যাদিকে হালাল মনে করা হচ্ছে। সহীহ বুখারীতে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে।-সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৯০ মুসনাদে আহমদের হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

আল্লাহ তাআলা আমাকে মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র, ক্রুশ ও জাহেলি প্রথা বিলোপসাধনের নির্দেশ দিয়েছেন।

ছায়ানট ও পহেলা বৈশাখ:

পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানটাই হল ছায়ানটের শিল্পীদের গান দিয়ে বর্ষকে বরণ করে নেয়া। তবে গানের মাধ্যমে বৈশাখ বরনের এই চল ছায়ানট কবে থেকে শুরুকরল সেই ব্যাপারে দুটো মত পাওয়া যায়—

একটি মত হলো, ১৩৭২ বঙ্গাব্দে (১৯৬৫) ছায়ানট প্রথম এ উৎসব শুরু করে। অন্য একটি মতে, ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানটের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা। এই দুটো মতের মধ্যে দ্বিতীয় ম মতটা অধিক গ্রহণযোগ্য। রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনের তীব্র অভিপ্রায়ে কিছু রবীন্দ্র ভক্তের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠত হয় ছায়ানট। ছায়ানটের জন্মই যেখানে ৫৪ বছর আগে, সেখানে গানের মাধ্যমে রমনাবটমূলে বর্ষবরণ করাকে হাজার বছরের বাঙ্গালি সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেয়া প্রথম শ্রেণির একটা কৌতুক।

পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার মতামত জানান এবং শেয়ার করুন। ধন্যবাদ!


Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/ourmedia24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5061

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© All rights reserved 2020 ourmedia24. কারিগরি সহায়তায়ঃ
Theme Customized By BreakingNews