1. omsakhawat@gmail.com : admin :
  2. emaad55669@gmail.com : Sakhawat Ullah : Sakhawat Ullah
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
বিঃ দ্রষ্টব্য
★★ স্বাগতম আপনাকে আমাদের সাইটে ভিজিট করার জন্য!চাইলে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন!  বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন! ★★
শিরোনাম
গভীর রাতে থেমে গেল ট্রেন, রেললাইনে শুয়ে রক্তাক্ত কুমির! সোমালিয়ায় আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১১ সৌদি বাদশার বিশেষ সহকারীকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন নির্দেশনা ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর পূর্বের বইপাঠ ও পর্যালোচনা উৎসব অনুষ্ঠিত গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ‘সংক্রমণ বাড়লে আবারো স্কুল-কলেজ বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হবে’ রাজধানীতে পথকলিদের নিয়ে ইশা ঢাকা মহানগর পূর্বের শিক্ষা আসর ও খাবার বিতরণ কর্মসূচী পালিত বাবু নগরীর পর এবার চলে গেলেন বাংলাদেশের মুফতিয়ে আজম আব্দুস সালাম চাটগামী অ্যাসাইনমেন্ট দিতে এসে কলেজের টয়লেটে সন্তান প্রসব, রেখেই পালালো ছাত্রী জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ নেতাকর্মী আটক

অর্থনৈতিকভাবে স্ববালম্বী হতে চাকরি বা বিজনেস যেটা আপনার ইচ্ছা বেছে নিন আজই!

কেমন ছিলেন সাইয়্যেদ আবুল হাছান আলী নদভী রহ.!

  • প্রকাশকাল : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩০৬ পঠিত

হুসাইন আহমদ খান


সাইয়েদ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভী ৷ ভারত উপমহাদেশের আদরের..শ্রদ্ধেয় ” আলী মিয়াঁ “৷ উম্মাতের শ্রেষ্ঠ বুযুর্গ ও শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরামের অন্যতম। উম্মতের দরদী অভিভাবক ৷ আল্লাহর পথের এক মহান দাঈ ৷ যিনি নববী দাওয়াত নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ৷

ভালোবাসা ও দরদ-ব্যথা মিশিয়ে উম্মতকে ডেকেছেন নববী চেতনা ও আদর্শের দিকে ৷ তিনি ইলমে ওহী’র
আলোকস্নাত এক শ্রেষ্ঠ মনীষী ৷ যার ইলমের আলোকে আলোকিত হয়েছে পূর্ব-পশ্চিম ৷

তিনি ছিলেন আবর-আজমের আধ্যাত্মিক রাহবার ৷ যিনি বিশ্বময় হিদায়েতের রৌশনি বিকিরণ করেছেন জীবনভর ৷ তিনি ছিলেন ইসলামের বীর সিপাহসালার! তাঁর মহান জীবনগাঁথা ও অমর কীর্তিগাথা তুলে ধরতেই এ জীবনালেখ্য ৷

  •   জন্ম ও বংশ

সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ১৩৩২ হিজরী’র মুহাররম মাসে জন্মগ্রহণ করেন । পিতা সাইয়েদ আবদুল হাই হাসানী রহ. ছিলেন সমকালীন ভারতবর্ষের খ্যাতিমান বিদগ্ধ আলেম, নামকরা উর্দূ সাহিত্যিক এবং মানিত ইতিহাসবিদ ৷ আর মাতা সাইয়েদা খায়রুননেসা বিনতে জিয়াউন্নাবী হাসানী ছিলেন হাফেজা, সুলেখিকা, দীনদার-তাহাজ্জুদগুযার এক মহীয়সী মহিলা ৷

পিতা-মাতা উভয়ের দিক থেকে আলী মিয়াঁ’র বংশধারা গিয়ে মিলিত হয়েছে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র হযরত হাসান রা.এর সাথে ৷ তাই তাঁর বংশের সবাই হাসানী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন ৷

ব্যক্তি গঠনে, জীবন নির্মাণে চাই উত্তম অভিভাবক ৷ ভাগ্যবান আলী নদভী সেটা পেয়েছিলেন ৷ মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান ৷ ফলে বাবার স্নেহ আর ভাইয়ের শাসন সবটাই পেয়েছেন বড় ভাই মাওলানা ডাক্তার সাইয়েদ আবদুল আলী রহ. এর কাছে ৷

তাঁর সতর্ক তত্ত্বাবধান আর কঠোর শাসনে গড়ে উঠেছেন আজকের আলী নদভী ৷ তিনি নিজেই বলেছেন— আমার শিক্ষা ও দীক্ষাগুরু পরম সম্মানিত বড় ভাই ডাক্তার সাইয়েদ আবদুল আলী রহ., যার যথার্থ মত, আল্লাহপ্রদত্ত সুস্থ চিন্তা, দৃঢ়তা ও গভীর ইলম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি বাঁকে আমাকে সাহায্য করেছে ৷

  •   শিক্ষা-দীক্ষা

 শৈশবে মায়ের কাছেই আলী মিয়াঁ কোরআন, আরবি ও উর্দূভাষার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। আলী মিয়াঁর আরবীভাষার প্রথম শিক্ষক ছিলেন শায়খ খলীল ইবনে মুহাম্মদ, যিনি মূলত আরব-ইয়ামানী আনছারী বংশোদ্ভূত ৷ তিনি ছিলেন সমকালে আরবীভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজাহিদ শিক্ষক ৷

১৯২৪ সালে আলী মিয়াঁ তাঁর কাছে আরবি ভাষা শেখা শুরু করেন এবং এই ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি তাঁর দুই চাচা শায়খ আযীযুর রহমান এবং শায়খ মুহাম্মদ তালহার কাছেও আরবি ভাষা ও সাহিত্য পড়েন।

পরবর্তীতে ১৯৩০ সালে নদওয়াতুল উলামাতে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে সর্বোচ্চ শিক্ষা লাভ করেন শায়খ ড. তাকীউদ্দীন হেলালী রহ.এর কাছে । যিনি ছিলেন আরব এবং আরবজাহানের স্বীকৃত আরবীভাষাবিদ ৷ ১৯২৬ সনে তিনি কানপুরের নদওয়াতুল উলামাতে
ভর্তি হন। এ সময়ে আরবি ভাষায় পারদর্শিতার কারণে তিনি সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেন এবং আরবদেশ থেকে আগত মেহমানদের সাথে দোভাষী হিসেবে তিনি বিভিন্ন জায়গায় সফর করেন।

১৯২৭ সালে তিনি লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে উর্দূ ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।১৯২৮ সাল থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত তিনি ইংরেজি ভাষা অধ্যয়ন করেন। যা ইসলাম সম্পর্কে লিখিত ইংরেজি বই থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহে তাঁর সহায়ক হয়।

১৯২৯ সালে তিনি আবার নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন এবং একনিষ্ঠভাবে শাইখুল হাদীস আল্লামা হায়দার হাসান খান টোঙ্কী রহ.এর দরসে অংশগ্রহণ করেন ৷ তিনি তাঁর কাছেই বুখারী মুসলিমসহ সুনানে আবু দাউদ এবং তিরমিজি শরিফ সমাপ্ত করেন। এ ছাড়া তাফসীরে বায়যাভীর কিছু অংশও তাঁর কাছে পড়েন।

আলী মিয়াঁ তার শিক্ষক শায়খ খলীল বিন মুহাম্মদের কাছেই নির্বাচিত কিছু সূরার তাফসির পড়েন। তার পর মাওলানা আব্দুল হাই আল ফারুকী সাহেবের কাছেও তিনি কোরআনের কিছু অংশের তাফসির পড়েন ৷

তবে মাদরাসার  সুনির্দিষ্ট পাঠ্যসূচী অনুযায়ী তিনি সম্পূর্ণ কোরআনের উচ্চতর তাফসির অধ্যয়ন করেন ১৯৩২ সালে লাহোরে আল্লামা মুফাসসির আহমাদ আলী লাহোরীর নিকট ৷ এ বছরই তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে উপস্থিত হয়ে শায়খুল ইসলাম আল্লামা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ. কাছে কয়েক মাস অবস্থান করেন এবং তাঁর সহীহ বুখারী ও সুনানে তিরমিজির বিশেষ দরস গ্রহণ করেন ৷

আলী মিয়াঁ তার কাছে উলুমুল কোরআন এবং তাফসিরও পড়েন। এছাড়া আলী মিয়াঁ শায়খ ইজাজ আলী রহ.এর কাছে ফিকহ এবং ক্বারী আসগর আলী রহ.নিকট  কাছে তাজবীদ শেখেন ৷

  •   আধ্যাত্মিক জীবন

তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ.এর সাথে গভীর সম্পর্ক ছিলো আলী মিয়াঁর ৷ আলী মিয়াঁ শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.এর হাতে বাইআত হন ৷ পরবর্তীতে তিনি হযরত মাওলানা আব্দুল কাদের রায়পুরী রহ. এবং শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রহ.এর থেকে খেলাফত লাভ করেন ৷

  •    কর্মের ময়দান

১৯৩৪ সালে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা’র শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি ৷ একাধারে পড়াতে থাকেন তাফসীর, হাদীস, আরবী সাহিত্য, আরবী সাহিত্যের ইতিহাস ও মানতেক । পাশাপাশি আরব বিশ্ব থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন আরবী সংবাদপত্রসহ দীনি, দাওয়াতী ও সাহিত্য-পত্রিকার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজের জ্ঞানের পরিধিকে আরো বিস্তৃত করতে থাকেন ৷

এভাবেই তাঁর সামনে উন্মোচিত হতে থাকে আরব সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের অজানা দিগন্ত এবং তিনি জানতে পারেন সেখানকার শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও লেখক-কবি-সাহিত্যিক সাংবাদিকদেরকে ৷ আরো জানতে পারেন আবর বিশ্বের পরিবেশ পরিস্থিতিসহ নানানমুখী প্রেক্ষাপট ৷

এছাড়াও এ সময়ে তিনি একদিকে আরব বিশ্বের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম, দাঈ, গবেষক ও চিন্তাবিদ এবং অন্যদিকে পাশ্চাত্য শিবিরের খ্যাতনামা লেখক, গবেষক ও রাজনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ রচনা সম্ভার গভীর অভিনিবেশ সহকারে পড়তে শুরু করেন ৷

মোটকথা, এসময়ই তিনি বহির্বিশ্ব সম্পর্কে তার জানার পরিধি বিস্তৃতি করতে থাকেন।

১৯৪৩ সালে দীনি শিক্ষার জন্য তিনি “আঞ্জুমানে তা’লীমাতে দীন” নামক একটি এ্যসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি কোরআন ও হাদিসের ওপর বেশকিছু বক্তৃতা প্রদান করেন, যা আধুনিক শিক্ষিত সমাজে সাড়া ফেলে।

১৯৪৮ সালে তিনি নদওয়াতুল উলামা’র নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ৷  ১৯৫১ সালে নদওয়াতুল উলামার তৎকালীন শিক্ষা বিভাগের পরিচালক সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রহ.এর প্রস্তাবে তাঁকে সহকারি শিক্ষাসচিব নির্বাচন করা হয় ৷ এরপর ১৯৫৪ সালে সুলাইমান নদভী রহ.এর ইন্তেকাল হলে তিনি শিক্ষাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে বড় ভাই আব্দুল আলী আল হাসানীর মৃত্যুর পর তিনি নদওয়াতুল উলামার মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৫১ সালেই তিনি তাঁর বিখ্যাত আন্দোলন “পায়ামে ইনসানিয়্যাত” শুরু করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইসলামী গবেষণা

একাডেমি’ ৷ ১৯৬০ সালে ‘উত্তর প্রদেশ দ্বীনি শিক্ষা কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠায়, ১৯৬৪ সালে ‘নিখিল ভারত ইসলামী পরামর্শ পরিষদ’ প্রতিষ্ঠায় এবং ১৯৭২ সালে ‘নিখিল ভারত মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড’ প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্রিয়ভাবে।অংশগ্রহণ করেন ৷

  • দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে দেশে-বিদেশে সফর

অবিসংবাদিতভাবে আবুল হাসান আলী নদভ রহ. ইসলামের এক মহান দাঈ ৷ একজন দাঈ’র প্রতিটি গুণাবলি— বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা, ব্যাপকভিত্তিক সংস্কৃতি, সাহিত্য প্রতিভা, জীবন্ত হৃদয়, উন্নত চরিত্র ও বিশুদ্ধ আকিদা— তাঁর মাঝে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিলো। তিনি এই দাওয়াত নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ৷

সফর করেছেন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ৷ ইসলামের দিকে মানুষকে ডেকেছেন তিনি লেখায়-বক্তৃতায় ৷ তাঁর বক্তব্যের শ্রোতা ছিলো কখনো প্রাচ্য, কখনো প্রতীচ্য, কখনো আরব, কখনো আজম ৷ হযরত আলী মিয়াঁ’র সফর ও দেশভ্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছিলো একেবারে যৌবনের সূচনাকালেই ৷ ১৯২৯ সালে তিনি লাহোর সফর করেন।

এটি তাঁর জীবনের প্রথম দূরবর্তী কোনো সফর ৷ ১৯৩৫ সালে তিনি বোম্বাই সফর করেন ৷ ১৯৩৯ সালে তিনি হিন্দুস্তানের দীনি প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখার, পর্যবেক্ষণ করার জন্য এক অনুসন্ধানী সফরে বের হন। ১৯৪৭ সালে তিনি হজব্রত পালনের জন্য প্রথম সৌদি আরব সফর করেন ৷

এ সফরে তিনি মক্কা-মদিনায় দীর্ঘ ছয় মাস অবস্থান করে সেখানকার শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাত করেন ৷ ১৯৫১ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো
হজ্বের সফর করেন ৷ এ বছরই তিনি মিশর ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম সফর করেন, যার ভিত্তিতে “মধ্যপ্রাচ্যের ডায়েরি” কিতাবের রচনা ৷ এ সফরে তিনি মিশরসহ সুদান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও জর্দান সফর করেন ৷

১৯৬৪ সালে তিনি তৃতীয়বার সিরিয়া সফর করেন এবং ১৯৭৩ সালে চতুর্থবার ৷ ১৯৫৬ সালে তিনি তূর্কী সফর করেন ৷ পরে তিনি আরো চারবার তূর্কী সফর করেন— ১৯৬৪, ৮৬, ৯৩ ও ৯৬ সনে ৷ ১৯৬২ সালে তিনি কুয়েত সফর করেন ৷

পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকবার তিনি কুয়েত সফর করেন ৷ ১৯৬২ সালে কাতার সফর করেন এবং পরবর্তীতে এখানেও তিনি একাধিকবার সফর করেছেন ৷ ১৯৭৩ সালে তিনি রাবেতায়ে আলমে ইসলামী’র এক প্রতিনিধি দল নিয়ে সফর করেন— আফগানিস্তান, ইরান, লেবানন, ইরাক ( ইরাকের প্রথম সফর ছিলো ১৯৫৬ সালে) , সিরিয়া ও জর্দান ৷

১৯৭৬ সালে মরক্কো সফর করেন ৷ ১৯৮২ সালে প্রথমবার এবং ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বার তিনি আলজেরিয়া সফর করেন ৷ ১৯৬০ সালে মিয়ানমার এবং ১৯৬৪ সালে প্রথম পাকিস্তান সফর করেন। পাকিস্তানে পরবর্তীতে তিনি আরো বেশ ক’বার সফর করেন ৷

১৯৭৮ সালে তিনি শ্রীলঙ্কা এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সফর করেন ৷ তাঁর বাংলাদেশের সফরের অতি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যগুলো উর্দূ ভাষায় প্রকাশিত تحفة مشرق ( প্রাচ্যের উপহার) সফরনামায় বিবৃত হয়েছে ৷

ইউরোপে তাঁর প্রথম সফর ছিলো ১৯৬৩ সালে ৷ তখন পরিদর্শন করেন— জেনেভা, লন্ডন, লোজান, বার্ন, প্যারিস, কেমব্রিজ, অক্সফোর্ড, গ্লাসগো ও এডিনবরা ৷ ইউরোপ সফরের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ অংশ ছিলো আন্দালুস ( বর্তমান স্পেন) সফর ৷

শত শত বছরের মুসলিম সভ্যতার সোনাঝরা বেদনাঘেরা স্মৃতি জ্বলজ্বল করে উঠেছিলো তখন শায়খ নদভীর হৃদয়-মনে ৷ ইউরোপে তাঁর দ্বিতীয় সফর ১৯৬৪ সালে এবং তৃতীয় ১৯৬৯ সালে হয়েছিলো  ৷ ইউরোপের চতুর্থ সফর ছিলো ১৯৮৩ সালে লন্ডনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ” ইসলামিক সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ ” প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে ৷ ১৯৮৫ সালে তিনি বেলজিয়াম সফর করেন ৷

১৯৭৭ সালে তিনি আমেরিকা ও কানাডা সফর করেন। এ সফরে তিনি নিউইয়র্ক, শিকাগো, টরেন্টো ও ওয়াশিংটনসহ আরো অনেক শহর ও প্রদেশ পরিদর্শন করেন ৷ ১৯৯৩ সালে তিনি আরেকবার আমেরিকা সফর করেন ৷ ১৯৮৭ সালে তিনি মালেশিয়া সফর করেন ৷ ১৯৯৩ সালে সফর করেন— তাসখন্দ, সমরকন্দ, খরতঙ্গ ও বুখারা ৷

এই হলো শায়খ নদভী’র সফরের সংক্ষিপ্ত বিরবণ ৷ এসব সফর এবং  জগতব্যাপী তাঁর কর্মতৎপরতা তাঁকে করে তুলেছিলো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ৷ যার কিছুটা ধারণা আমরা পেতে পারি এসব সফরে বিভিন্ন  রাজা-বাদশাহ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্বের সাথে তাঁর সাক্ষাত ও মতবিনিময়ের বিবরণ থেকে ৷ দেখুন–

১. ১৯৫১ সালে জর্দানের তৎকালীন বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন হোসাইনের সাথে সাক্ষাত করে মতবিনিময় করেন ৷

২. ১৯৭৩ সালে জর্দানের বাদশাহর নাতী বাদশাহ হোসাইন বিন তালালের সাথে সাক্ষাত ও মতবিনিময় করেন ৷

৩. ১৯৬৩ সালে বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আযিযের সাথে সাক্ষাত করেন— যখন তিনি যুবরাজ ছিলেন ৷ তাঁর বাদশাহ হওয়ার পরও তার সাথে একাধিকবার সাক্ষাত করে মুসলিম উম্মাহর সার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন ৷

৪. বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযিযের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত হয় দু’বার ৷ একবার
যুবরাজ থাকা অবস্থায় ৷ দ্বিতীয়বার যখন তিনি বাদশাহ হন ৷

৫. ১৯৭৪ সালে মরক্কোর বাদশাহ দ্বিতীয় হাসানের সাথে তার সাক্ষাত হয় ৷

৬. ১৯৭৬ সালে শারজা’র প্রশাসক শায়খ সুলতান বিন মুহাম্মদ আল-কাসেমী’র সাথে তাঁর অন্তরঙ্গ বৈঠক হয়।

৭. ১৯৮৪ সালে ইয়ামেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ’র সাথে তাঁর সাক্ষাত হয় ৷

৮. ১৯৮৪ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সাথে তাঁর অন্তরঙ্গ সাক্ষাত এবং গভীর মতবিনিময় হয় ৷

এছাড়াও আন্তর্জাতিক মহলে শায়খ নদভী রহ. এর পরিচিতি, মান্যতা এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে তাঁর মর্যাদা, অবস্থান ও ভালোবাসা কী পরিমাণে ছিলো তার কিছুটা ইঙ্গিত পাই দেশে-বিদেশে যে সব গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও  সংগঠনের সম্মানিত সভাপতি ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি— তার তালিকা থেকে ৷

 লক্ষ্য করুন–

১. নদওয়াতুল উলামা’র মহাসচিব ও নদওয়াতুল উলামা পরিচালিত দারুল উলুমের সভাপতি।

২. দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শূরার সদস্য ৷

৩. রাবেতায়ে আলমে ইসলামী’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৷

৪. মক্কাভিত্তিক মসজিদ সংক্রান্ত সর্বোচ্চ পরিষদের সদস্য ৷

৫. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ৷

৬. আন্তর্জাতিক ইসলামী সাহিত্য সংস্থার স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ৷

৭. পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মজলিসে শূরার সদস্য ৷

৮. মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মজলিসে শূরার সদস্য ৷

৯. দামেশক আরবী ভাষা ফাউন্ডেশনের সদস্য ৷

১০. জর্দান রাজকীয় ইসলামী গবেষণা পরিষদের সদস্য ইত্যাদি ৷

  • লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চা

শায়খ নদভী ছিলেন বিশ শতকের লেখালেখির ইতিহাসে দীপক দীপ ৷ তাঁর লেখার জোসনায় আলোকিত পৃথিবীর  পুব-পশ্চিম ৷ ভাষার শক্তি, সাহিত্যের কান্তি, চিন্তার দীপ্তি, আত্মার দরদ আর উপস্থাপনার মোহন মন্ত্রে তিনি জয় করেছেন বিদ্যানুরাগী পুরো পৃথিবী ৷

তাঁর গ্রন্থের পাঠক মাত্রই জানেন— তথ্যের প্রাচুর্য, চিন্তার বিস্তার ও তীক্ষ্মতা, নববী আদর্শের দৃঢ়তা, বিশ্বাসের আপোসহীনতা, ভাষার মাধুর্য, সাহিত্যের অলঙ্কার আর শালীন ও মোহন উপস্থাপনার রং রসে মনোহর তাঁর প্রতিটি রচনা ৷

শিক্ষকের গাম্ভীর্য, শিক্ষার্থীর উষ্ণতা, দাঈর দরদ, পণ্ডিত্যের তথ্য, সাহিত্যিকের মনন, সম্পাদকের নির্দেশনা, সাংবাদিকের অনুসন্ধান, গবেষকের বিশ্লেষণ আর সাধারণের সারল্য মেশানো তাঁর প্রতিটি লেখা ৷

শায়খ নদভী আরবী ভাষায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৯৯টি আর উর্দু ভাষায় ৩০৪টি গ্রন্থ রচনা ! তাঁর সৃজনশীল রচনাবলি বরাবর অবাক করে যাবে পৃথিবীর গুণমুগ্ধ সকল পাঠককে। খুব ছোট থেকেই আলী মিয়াঁ’র লেখালেখির সূচনা ৷ মাত্র তেরবছর বয়সে প্রথম উর্দূ লেখা প্রকাশিত হয় যমীনদার পত্রিকায় ৷

১৬ বছর বয়সে মিশরের অভিজাততম পত্রিকায় দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশ পায় ৷ শায়খ নদভী’র যে কিতাবটির কথা না বললেই নয় সেটি হলো আরবীতে তাঁর প্রথম কিতাব— মাযা খাসিরল আলম বি-ইনহিতাতিল মুসলিমিন ( মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো?) ৷

মাত্র ৩০ বছর বয়সে রচিত তাঁর এই কিতাব তাঁকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি ও সম্মান এনে দিয়েছে ৷ অতঃপর নিশ্ছিদ্র এই কলম-সংগ্রাম তাঁকে প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদার কোন আসনে সমাসীন করেছিলো।

তার কিছুট জানতে পারবো তাঁর অর্জিত পুরস্কারগুলোর দিকে তাকালে ৷ দেখুন—

★১৯৮০ সালে বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ ৷

★১৯৮১ সালে কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্যে (সম্মানজনক) পিএইচডি
ডিগ্রী লাভ ৷

★১৪১৯ হিজরীতে দুবাই সরকারের পুরস্কার লাভ ৷

★১৪২০ হিজরীতে ব্রুনাই সুলতানের পুরস্কার লাভ ইত্যাদি ৷

  •   মৃত্যু

১৪২১ হি. ২২শে রমযান ( ১৮/১২/২০০০ খৃ.) সূরায়ে ইয়াসিন তেলাওয়াতকালে মুসলিম উম্মাহকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে শায়খ নদভী দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করে দয়াময় আল্লাহর রহমতের ছায়া লাভ করেন ৷ চিন্তা ও আধ্যাত্মিকতা, উভয় ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এই উম্মাহর পথপ্রদর্শক ৷

আল্লাহ তাআলা তাঁকে গারীকে রাহমাত করুন ৷ তাঁর পবিত্র জীবন অনুসরণের তাওফীক আমাদের দান করুন, আমীন ৷

পুনশ্চ: কবরে শায়িত প্রিয়জনদের জন্য তাঁর একটি প্রিয় প্রার্থনা ছিলো— অনেকবার অনেক উপলক্ষে এ প্রার্থনা তিনি উচ্চারণ করেছেন— আমরাও তাঁকে স্মরণ করে উচ্চারণ করি—

“আসমান উনকে লাহদ প্যর শবনম আফশানি ক্যরে

সবযায়ে নওরাস্তা ইস ঘর কী ন্যগাহবানী ক্যরে

আসমান যেন তাঁর কবরে শবনম ঝরায়
সবুজ গালিচা যেন ঐ ঘর ঢেকে রাখে”!

পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার মতামত জানান এবং শেয়ার করুন। ধন্যবাদ!


Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/ourmedia24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5411

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© All rights reserved 2020 ourmedia24. কারিগরি সহায়তায়ঃ
Theme Customized By BreakingNews